হৃদয়ের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা বাংলাদেশের

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন এই তরুণ ব্যাটার। অন্য প্রান্তে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তাঁর প্রতিরোধে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। তবে মুশফিকের বিদায়ের পর আবারও চাপে পড়েছে স্বাগতিকরা।

শনিবার তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭২.৫ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৬ রান। প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এখনো ১৪০ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। হৃদয় ১৯১ বলে ১১১ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১২টি চার ও একটি ছক্কা।

দিনের খেলা শুরু হয়েছিল আগের দিনের ৮৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর অবস্থান থেকে। ক্রিজে ছিলেন হৃদয় ও মুশফিক। শুরু থেকেই সতর্ক ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের সামলে এগোতে থাকেন দুজন। অভিজ্ঞতা ও ধৈর্যের সমন্বয়ে তৈরি করেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

চতুর্থ উইকেটে মুশফিক ও হৃদয় যোগ করেন ৭৩ রান। ১৫১ বলের এই জুটি বাংলাদেশের ইনিংসে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর এই জুটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ৪৭.৫ ওভারে ব্যক্তিগত ৩৪ রানে থামতে হয় মুশফিককে। ৭৬ বলের ইনিংসে চারটি চার মেরেছেন তিনি। জোমেল ওয়ারিকানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে রস্টন চেজের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ১২৪ রান।

মুশফিকের বিদায়ের পরও থামেনি হৃদয়ের লড়াই। একদিকে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যে অন্য প্রান্ত আগলে রেখে এগিয়ে যান তিনি। লিটন দাস ৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ১৬ এবং হাসান মাহমুদ ১ রান করে ফিরলেও নিজের ব্যাটিংয়ে অবিচল ছিলেন হৃদয়। শেষ পর্যন্ত তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতক।

এর আগে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেও টেস্টে এমন বড় ইনিংসের অপেক্ষায় ছিলেন হৃদয়। সিলেটের মাটিতে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দলের কঠিন সময়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে জোমেল ওয়ারিকান বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছেন। ৬৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। রস্টন চেজ পেয়েছেন একটি উইকেট।

এর আগে বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থামে ৩৫৬ রানে। হাসান একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। ক্যারিবীয়দের হয়ে আমির জাঙ্গু ১৩৩, কেভিন উইকহাম ৬১ ও জাস্টিন গ্রিভস ৫১ রান করেন।

এখন বাংলাদেশের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ প্রথম ইনিংসের ঘাটতি কমিয়ে আনা। হৃদয়ের ব্যাটে শতকের আনন্দ থাকলেও দলের সাত উইকেট হারানোর বাস্তবতা অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। শেষ পর্যন্ত হৃদয় কতদূর যেতে পারেন, সেটিই এখন বাংলাদেশের ইনিংসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।