নবীগঞ্জে মাইকিংয় করে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: নিহত ১

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ডাকাডাকির পর ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন এক যুবক কৃষক। মঙ্গলবার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার ৪নং দীঘলবাক ইউনিয়নের কাকুড়া ও রাধাপুর গ্রামের শতাধিক গ্রামবাসীর মধ্যে টানা সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়ে প্রাণ হারান রাধাপুর গ্রামের আব্দুর রূপ মিয়ার ছেলে সাব্বির মিয়া (৩০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কৃষিকাজ সেরে বাড়ি ফেরার সময় প্রতিপক্ষরা সাব্বিরের ওপর হামলা চালায়। নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় এই তরুণ কৃষককে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ মোঃ কামরুজ্জামান।

ঘটনার পর রাধাপুর গ্রামের বাতাসে এখন শুধু কান্নার সুর। স্বজনদের বুকফাটা আহাজারি, চারপাশের মানুষের চোখে অশ্রু। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য—নিহত সাব্বিরের দুই ছোট্ট সন্তান। বড় সন্তানটি নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বাবার নিথর দেহের দিকে। আর কোলে থাকা এক বছরেরও কম বয়সী অবুঝ শিশু শুধু কান্না করে যাচ্ছে। পুরো গ্রাম কাঁদছে তাদের সঙ্গে।

স্থানীয়দের দাবি, সকালে গ্রামজুড়ে মাইকিং করে লোকজনকে সংঘর্ষে ডাকাডাকি করা হয়। দুই পক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রণক্ষেত্রের রূপ নেয় এলাকা। লাঠি, দা, রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কাকুড়া ও রাধাপুর গ্রামে।

স্থানীয়রা অনেকেই জানান- রাধাপুর থেকে যাওয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (টমটম) কাকুরা এলাকায় পৌঁছালে সেখানে থাকা সিএনজি চালকগণ যাত্রিদের জোরপূর্বক নামিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জের ধরে এই সংঘর্ষ ঘটেছে।

গ্রামের মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাব্বির ছিলেন শান্তশিষ্ট কৃষক। পরিবার চালানোর জন্য প্রতিদিন মাঠে কাজ করতেন তিনি। আজ তার লাশের পাশে শোকে পাথর হয়ে বসে আছেন স্ত্রী। শোকের মাতমে রাধাপুর গ্রাম এখন অচল।

এই রক্তাক্ত ঘটনার পর গ্রামজুড়ে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।