হয়রানিমূলক মামলা থেকে খালাস পেলেন সাংবাদিক বাপ্পী ও সাইফুর

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেন ইমাদের দায়ের করা সাইবার ট্রাইব্যুনালের মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন সাংবাদিক সৈয়দ বাপ্পী ও সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, সিলেট অঞ্চলের প্রথম নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল আজকের সিলেট এর প্রধান সম্পাদক এম. সাইফুর রহমান তালুকদার। দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে বুধবার আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার মুনজের আহমদ।

আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় পবিত্র ঈদুল আজহায় দুর্গতদের জন্য বরাদ্দকৃত গরু আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন ইমাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় সালিশ বৈঠকও হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট সাংবাদিক সৈয়দ বাপ্পীকে প্রধান আসামি এবং এম. সাইফুর রহমান তালুকদারসহ ১৩ জনকে আসামি করে সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন চেয়ারম্যান ইমাদ।

পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের চাপে পিবিআই অন্যায় ও ভিত্তিহীনভাবে ৩ জন সাংবাদিকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও পর্যালোচনা শেষে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।

সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. সাইফুর রহমান তালুকদার বলেন, বিগত সময়ে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করার জন্য কালো আইন করা হয়েছিল। সেই আইনেই আমরা মামলা ও হয়রানীর শিকার হয়েছি। এই মামলাটির বাদি একজন চিহিৃত দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্ট। সর্বশেষ জুলাই বিপ্লবের সময়েও নিরিহ ছাত্রজনতার উপর হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। মামলাটিতে গ্রেফতারী পরোয়ানা/হুলিয়া মাথায় নিয়ে ঘুরছিলাম, এক পর্যায়ে এই মামলাটির জন্য দেশত্যাগেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আজ মুক্ত হলাম। আলহামদুলিল্লাহ।