টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর প্লাবিত হয়েছে। ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় পর্যটন কেন্দ্রের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ধলাই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সাদাপাথর এলাকার পাথরঘেরা সৌন্দর্য এখন উত্তাল পানির স্রোতে ঢেকে গেছে। নদীর তীব্র স্রোত ও পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাদাপাথরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা। নৌকা চালক, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক, ক্ষুদ্র দোকানি, পরিবহন শ্রমিকসহ পর্যটননির্ভর শতাধিক পরিবার বর্তমানে আয়ের উৎস হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত পর্যটকদের ভিড় বেড়ে যায় এবং এ সময়ের আয়ের ওপরই অনেকের সংসার নির্ভর করে। কিন্তু চলমান পরিস্থিতিতে পর্যটকদের আগমন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নেমেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। অনেকেই ইতোমধ্যে লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিন মিয়া জানান, “পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সাময়িকভাবে সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। পানি কমে গেলে এবং পরিবেশ নিরাপদ হলে পর্যটকদের জন্য কেন্দ্রটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি এবং পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, সাদাপাথর শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি এলাকার শত শত মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। তাই দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পুরো মৌসুমজুড়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাত।
সম্পাদক: মিজান মোহাম্মদ
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বন্দর বাজার, সিলেট।
runningsylhet.com