সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের ধলাই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটক ও চিকিৎসক সুব্রত বিকাশ সাহার (৩৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রায় ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা তল্লাশি অভিযানের পর শুক্রবার সকালে নদীতে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
নিহত সুব্রত বিকাশ সাহা(৩৩) ফেনী জেলার রামগতি উপজেলার বাসিন্দা মিহির লাল সাহার ছেলে। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে ৩বন্ধুর সঙ্গে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে এসে ধলাই নদীতে গোসল করতে নামেন সুব্রত বিকাশ সাহা।
একপর্যায়ে নদীর প্রবল স্রোত ও গভীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজন যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে শুক্রবার সকালে নদীতে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়দের সহায়তায় তা উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান নিখোঁজ হওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনের পর্যটন এলাকার সেবাকর্মী ফায়ার সার্ভিস বিজিবি পুলিশ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন তিনি সাঁতার না জানা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য লাইভ জেকেট ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।
কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসি সফিকুর রহমান খান জানান পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান নেন, সকালে মৃত লাশটি উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য থানায় নিয়ে আসি।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসল করতে নেমে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের ৯ জুন ধোলাই নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান মেহেদী হাসান ইমন (১৬)। তিনি সিলেট নগরীর লালাদিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা জামাল মিয়ার ছেলে। একের পর এক এমন দুর্ঘটনায় পর্যটনকেন্দ্রটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং দর্শনার্থীদের জন্য কার্যকর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
সম্পাদক: মিজান মোহাম্মদ
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বন্দর বাজার, সিলেট।
runningsylhet.com