হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে করাব ও সিংহ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি ও বৈঠক-সমাবেশের খবরে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুল্লাবাজার ও লাখাই-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের করাব এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে উত্তেজনার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন করাব গ্রামের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে পচনশীল সবজি নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে বুল্লাবাজারে করাব গ্রামের মৃত তাউছ মিয়ার ছেলে বচন মিয়া (২২) মারধরের শিকার হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিংহ গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর গত ২৫ অক্টোবর রোববার লাখাই-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের করাব এলাকায় সিংহ গ্রামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন করাব গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব ঘটনার পর দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় গ্রামে এ নিয়ে বৈঠক ও সমাবেশ হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সিংহ গ্রামের কিছু লোক বুল্লাবাজারে করাব গ্রামের বাসিন্দাদের পেলে হামলা বা মারধরের হুমকি দিচ্ছেন। অন্যদিকে, করাব গ্রামের কিছু লোকও মহাসড়কের করাব এলাকায় সিংহ গ্রামের বাসিন্দাদের ওপর হামলার হুমকি দিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন করাব গ্রামের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দোকানে থাকা সবজি সময়মতো বিক্রি করতে না পারলে পচে নষ্ট হবে।
করাব গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী রাসেল ও শাহীন জানান, তাঁদের দোকানে প্রায় এক লাখ টাকার বিভিন্ন ধরনের সবজি রয়েছে। চলমান পরিস্থিতির কারণে দোকানে যেতে না পারায় এসব সবজি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে জানান এই দুই ব্যবসায়ী।
এ ছাড়া করাব গ্রামের আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে না পারায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও ব্যাহত হবে এবং পচনশীল পণ্যের ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, “দুই গ্রামের পরিবেশ শান্ত রাখতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সংঘর্ষের আশঙ্কার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
সম্পাদক: মিজান মোহাম্মদ
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বন্দর বাজার, সিলেট।
runningsylhet.com