মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিম রাফি হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার আপন ছোট ভাইকে (১৬)। রাফি উপজেলার ১ নম্বর রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি।
সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যার পরপরই মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান এবং কমলগঞ্জ থানার ওসি আবু আফর মো. মাহফুজুল কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তি, গোপন সূত্র এবং এলাকাবাসীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের ছোট ভাইকে ঘটনার দিনই হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে নিহতের স্ত্রী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদে গত রোববার সন্ধ্যায় স্বীকার করে যে, ৯ আগস্ট সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় বড় ভাইকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সে।
আটক আসামি পুলিশকে জানায়, ঘটনার আগের দিন (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে সে বড় ভাই রাফির কাছে ৫০০ টাকা চায়। রাফি টাকা না দিয়ে গালাগালি ও দুর্ব্যবহার করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রানা পরদিন সকাল ৭টার দিকে মাকে বাড়িতে না পেয়ে এবং ভাইয়ের ঘরের দরজা খোলা দেখে খাটের নিচে রাখা ধারাল দা দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর দা ও রক্তমাখা লুঙ্গি ধুয়ে খাটের নিচে রেখে স্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে।
তবে পুলিশ জানায়, কেবল ৫০০ টাকা না দেওয়াই হত্যার একমাত্র কারণ নয়। চার বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর রাফি ছোট ভাইয়ের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছিল এবং মাদ্রাসায় থাকার জন্য তাকে চাপ দিতেন। এ শাসন মানতে পারত না আটক আসামি। এ ছাড়া রাফি পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে করায় ভাবি-শাশুড়ি ও দেবরের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এসব কারণে বড় ভাইয়ের প্রতি ক্ষোভ জমে ওঠে তার।
আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত দা এবং রক্তমাখা লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১০ আগস্ট কমলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
সম্পাদক: মিজান মোহাম্মদ
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বন্দর বাজার, সিলেট।
runningsylhet.com